ফিজিওথেরাপি কোর্স কোথায় করা যায় ? ফিজিওথেরাপি কোর্সে পড়াশোনায় খরচ কেমন ?

বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি: একটি সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার গাইড

আপনি যদি ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে বাংলাদেশে মূলত তিনটি ধরনের কোর্সের মাধ্যমে এই পেশায় প্রবেশ করা যায়:

১. বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি (BSc in Physiotherapy) এইচএসসি পাশ শিক্ষার্থীদের জন্য (৫ বছর)
২. ডিপ্লোমা ইন ফিজিওথেরাপি (Diploma in Physiotherapy) এসএসসি পাশ শিক্ষার্থীদের জন্য (৪ বছর)
৩. ফিজিওথেরাপি অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্স ( কোয়ালিফাইড ফিজিওথেরাপিস্ট এর অধীনে ১ বছর মেয়াদী)

বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি বর্তমানে একটি দ্রুত জনপ্রিয় ও চাহিদাসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেশা হিসেবে পরিচিত। শারীরিক চিকিৎসা, ব্যথা ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন (Rehabilitation) এবং চলাফেরার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফিজিওথেরাপি কি ?

ফিজিওথেরাপি শব্দটি এসেছে ফিজিও (শরীর) ও থেরাপি (চিকিৎসা) — এই দুটি শব্দ থেকে। এটি একটি স্বতন্ত্র ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে শারীরিক ব্যায়াম, মুভমেন্ট ও বিভিন্ন থেরাপিউটিক কৌশল ব্যবহার করা হয়। সব রোগের ক্ষেত্রে শুধু ওষুধই চূড়ান্ত সমাধান নয়। বিশেষ করে শরীরের গঠনগত বা মেকানিক্যাল সমস্যাজনিত রোগে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফিজিওথেরাপি একটি অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক স্বতন্ত্রভাবে রোগীর নানাবিধ শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে বাত ও ব্যথাজনিত সমস্যা, আঘাতের পর ব্যথা, প্যারালাইসিস, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা, বিকলাঙ্গতা, পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী এবং বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। এছাড়াও মাথা, ঘাড়, কাঁধ, পিঠ, কোমর ও হাঁটুর ব্যথা, বিভিন্ন ধরনের বাত এবং স্পোর্টস ইনজুরির ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি ?

একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর চিকিৎসা শুরু করেন বিস্তারিত রোগ ইতিহাস গ্রহণের মাধ্যমে। এরপর রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন ফিজিক্যাল পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপিউটিক স্পেশাল টেস্ট, পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা (যেমন এক্স-রে, এমআরআই ইত্যাদি) এবং প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করে রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় বা ডায়াগনোসিস করেন।

রোগ নির্ণয়ের পর রোগীর সমস্যা, বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম বিবেচনা করে একটি উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা (ট্রিটমেন্ট প্ল্যান) তৈরি করা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত প্রধান পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • ম্যানুয়াল থেরাপি
  • ম্যানিপুলেটিভ থেরাপি
  • জয়েন্ট মোবিলাইজেশন
  • মুভমেন্ট উইথ মোবিলাইজেশন
  • থেরাপিউটিক ব্যায়াম
  • প্রয়োজন অনুযায়ী ইনফিলট্রেশন বা জয়েন্ট ইনজেকশন
  • শরীরের সঠিক ভঙ্গি সম্পর্কে পশ্চারাল এডুকেশন
  • কাজের পরিবেশ ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্য আরগোনমিক্যাল কনসালটেন্সি
  • হাইড্রোথেরাপি
  • ইলেকট্রোথেরাপি বা আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে চিকিৎসা (যেমন— TENS, IRR, ট্র্যাকশন ইত্যাদি)

উল্লেখ্য, ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় যন্ত্রের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে সীমিত; মূল গুরুত্ব দেওয়া হয় হাতের কাজ, ব্যায়াম ও মুভমেন্ট-ভিত্তিক চিকিৎসার ওপর। তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ বা ড্রাগস ব্যবহার করা হতে পারে।

ফিজিওথেরাপি পাশ করে চাকুরীর সুযোগ এবং বেতন

ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে দেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। পঙ্গু হাসপাতাল, জাতীয় ট্রমা সেন্টারসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফিজিওথেরাপিস্টদের প্রয়োজন দিন দিন বাড়ছে। এছাড়াও ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, ক্রীড়া দল এবং স্পোর্টস ক্লাবগুলোতেও এই পেশাজীবীদের জন্য কাজের সুযোগ রয়েছে।

ফিজিওথেরাপিতে পর্যাপ্ত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে পারলে আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোতে উচ্চপর্যায়ে কাজ করার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তাছাড়া ফুটবল, হকি, ভলিবলসহ বিভিন্ন জাতীয় ও পেশাদার ক্রীড়া দলে ফিজিওথেরাপি কনসালট্যান্ট হিসেবে যুক্ত হয়ে একটি সম্মানজনক ও আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব।

উন্নত দেশগুলোতে ফিজিওথেরাপি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সম্মানজনক পেশা হলেও বাংলাদেশে এই পেশাটি এখনো নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার প্রতিবন্ধী ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করায় ফিজিওথেরাপিস্টদের জন্য সরকারি চাকরির সুযোগ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিসিএস সহ সকল ১ম শ্রেণীর চাকুরীর আবেদন করা যাবে ।

ফিজিওথেরাপিতে উচ্চশিক্ষা

বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি কোর্স করার পরে আপনি ফিজিওথেরাপিতে বাংলাদেশে এবং দেশের বাহিরে মাস্টার্স ইন ফিজিওথেরাপি এবং ফিজিওথেরাপি এর উপর পিএইচডি করতে পারবেন ।

১. বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি (BSc in Physiotherapy)

এটি ফিজিওথেরাপি ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্ট্যান্ডার্ড, প্রফেশনাল ও স্বীকৃত ডিগ্রি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টি, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারী ও বেসরকারীভাবে বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি কোর্স পরিচালিত হয়।

মেয়াদ:
৪ বছর একাডেমিক পড়াশোনা + ১ বছর ইন্টার্নশিপ (মোট ৫ বছর)

যোগ্যতা – বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ (পদার্থ ,রসায়ন ও জীববিজ্ঞান সহ

সরকারীভাবে বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি প্রতিষ্টান এর তালিকা

National Institute of Traumatology and Orthopaedic Rehabilitation (NITOR)

Institute of Health Technology, Dhaka (Dhaka IHT)

Institute of Health Technology, Rajshahi (Rajshahi IHT)

Jashore University of Science and Technology (JUST) (গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার অধীনে)

আইএইচটিতে বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি কোর্স

ইন্সটিটিউট অফ হেলথ টেকনোলজি ,ঢাকা ,ইন্সটিটিউট অফ হেলথ টেকনোলজি রাজশাহী এই দুইটা প্রতিষ্ঠান এর ভর্তি পরীক্ষা একই সাথে একই প্রশ্নে একই দিনে হয় । স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সারকুলার প্রকাশ করে ।

ভর্তি যোগ্যতা –

এইচএসসি তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ন হয়ে পদার্থ, জীববিজ্ঞান এবং রসায়ন সহ (ঐচ্ছিক বিষয় বাদে)

পয়েন্ট –
এসএসসি – ৩.০০ কমপক্ষে
এইচএসসি – ৩.০০
সর্বমোট – ৭.০০

পাশের সন – প্রার্থীকে ২০২৩,২৪,২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

সিলেবাস ও মানবন্টন

🟩সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানবন্টন –
ইংরেজী – ১৫
পদার্থ – ২০
রসায়ন – ২৫
জীব বিজ্ঞান – ৩০
সাধারণ জ্ঞান – ১০
মোটঃ ১০০
♦️ঢাকা আইএইচটিতে আসন সংখ্যা- ফিজিওথেরাপি – ৫৫
♦️রাজশাহী আইএইচটি আসন সংখ্যা – ফিজিওথেরাপি -৩০

এসএসসি তে প্রাপ্ত জিপিএ-এর ১০ গুণ (৫০%) এইচএসসি তে প্রাপ্ত জিপিএ-এর ১০ গুণ (৫০%)
এমসিকিউ পরীক্ষা ১০০ নম্বর
মোট – ২০০ নম্বরের পরীক্ষা
এইচএসসি পাশ এবং জেনারেল শিক্ষার্থীদের মানবন্টন একই
পরীক্ষার সময় – ১ ঘন্টা

নেগেটিভ মার্ক নেই

ক্যালকুলেটর ব্যাবহার করা যাবে না ।

সেকেন্ড টাইম এবং থার্ড টাইম আছে

পরীক্ষার কেন্দ্র –

পরীক্ষার কেন্দ্র শুধুমাত্র ঢাকা আইএইচটিতে ।

কত পেলে চান্স হয় ? কাট মার্ক ?

ঢাকা আইএইচটি -২০২৪-২৫
ফিজিওথেরাপি – সর্বোচ্চ – ১৮৭ (MCQ – ৮৮) সর্বনিম্ন – ১৭২ (MCQ – ৭৫)

রাজশাহী আইএইচটি ২০২৪-২৫
ফিজিওথেরাপি – সর্বোচ্চ – ১৭২ (MCQ – ৭৭) সর্বনিম্ন – ১৫৮ (MCQ – ৫৮)

পড়াশোনার সর্বমোট খরচ

ঢাকা আইএইচটি – ফিজিওথেরাপি –
ভর্তি ফি+হোস্টেল ফি-৫৩৫০০/-

৪ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি (প্রফ এর জন্য ) এটা কম বেশি হতে পারে।
১২*৪=৪০ হাজার

রাজশাহী আইএইচটি ফিজিওথেরাপি –
ভর্তি ফি- ৮৫০০০/- টাকা

৪ বছর পরীক্ষার ফিস – ১২*৪=৪০ হাজার
(রেজিস্ট্রেশন ফি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে নির্ধারণ করা হবে)

আবেদন প্রক্রিয়া –

আবেদন টেলিটক সিম এর মাধ্যমে করতে হবে । যেকোনো একটি কলেজে একটি সাবজেক্ট চয়েজ দেওয়া যাবে । আবেদন ফি -১০০০ টাকা । আবেদন শেষ হলে -http://dgme.teletalk.com.bd/ihtbsc/ এই লিংক থেকে ছবি এবং সিগনেচার আপলোড দিয়ে প্রবেশপত্র ডাউনলোড দিতে হবে ।

নিটোরে বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি কোর্স

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) এটা আলাদা পরীক্ষা হয় । নিটোর থেকে সারকুলার প্রকাশিত হয় ।

  • চলমান কোর্স – বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি
  • BPT – BSC in Physiotherapy
  • মেয়াদ – (৪ বছর+১ বছর ইন্টার্ন) = ৫ বছর
  • হোস্টেল আবাসন নিজের ব্যাবস্থা করে নিতে হবে ।
  • নিটোরে ইনটার্ণ ভাতা নেই
  • পাশ করার পর পদবী (বাংলাদেশ রিহ্যাবিলেশন কাউন্সিল ) প্রদান করবে ।
  • মোট আসন সংখ্যা – ৪৫ টি
  • সেকেন্ড টাইম আছে
ভর্তি যোগ্যতা –

পয়েন্ট
এসএসসি – ৩.৫০ কমপক্ষে
এইচএসসি – ৩.৫০ কমপক্ষে
সর্বমোট – ৮.০০

পাশের সন – প্রার্থীকে ২০২৪, ২০২৫ সালে
এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ,রসায়ন এবং জীববিজ্ঞান সহ উত্তীর্ণ হতে হবে।

সিলেবাস ও মানবন্টন

ইংরেজি +সাধারণ জ্ঞান—১০
পদার্থ—৩০
রসায়ন —৩০
জীববিজ্ঞান—৩০  

এসএসসি তে প্রাপ্ত জিপিএর ৮ গুন (৪০ %)
এইচএসসি তে প্রাপ্ত জিপিএ এর ১২ গুন (৬০%)
এমসিকিউ পরীক্ষা ১০০ নম্বর
মোট – ২০০ নম্বরের পরীক্ষা
পরীক্ষার সময় – ১ ঘন্টা
ভর্তি পরীক্ষা নাম্বার সমান হলে পদার্থ ,রসায়ন এবং জীববিজ্ঞানের মোট পয়েন্ট দেখা হবে

আসন সংখ্যা -৪৫ টি

কত পেলে চান্স হয় ? কাট মার্ক ?

২০২৪-২৫ – সর্বোচ্চ নাম্বার- ১৬৯.৫০
২০২৪-২৫ –সর্বনিম্ন নাম্বার – ১৬০

২০২৩-২৪ – সর্বোচ্চ নাম্বার – ১৭১
২০২৩-২৪ – সর্বনিম্ন নাম্বার – ১৬৪

২০২২-২৩ – সর্বোচ্চ নাম্বার – ১৭৯
২০২২-২৩ – সর্বনিম্ন নাম্বার – ১৬৬

২০২১-২২ – সর্বোচ্চ নাম্বার – ১৭৯
২০২১-২২ – সর্বনিম্ন নাম্বার – ১৬৫

২০২৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৭০০+

পড়াশোনার সর্বমোট খরচ

ভর্তির সময় ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মতো লাগে । ৪ বছরে ৪ টা প্রফ এর জন্য প্রতি পরীক্ষা ফি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মতো লাগবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ।

আবেদন প্রক্রিয়া –

আবেদন ফি -১০০০/-

আবেদন এর ওয়েবসাইট – https://nitorbd.bigmsoft.com/apply

পরীক্ষার কেন্দ্র –

আগারগাঁও তালতলা সরকারী কলোনী স্কুল এন্ড মহিলা কলেজ)
ও আগারগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা

বেসরকারীভাবে বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি প্রতিষ্ঠান এর তালিকা

      Dhaka University (Affiliated)
International Institute of Health Science
Japan Bangladesh College of Physiotherapy and Health Science , Mirpur, Dhaka
Bangladesh Health Professions Institute (BHPI) Academic Instititue of CRP
Dhaka College of Physiotherapy
Institute of Medical Technology-IMT
State College of Health Science
SAIC Institute of Medical Technology
Mymensing College of Physiotherapy
Agrani College of Physiotherapy
Daffodil Health Institute
Gonoshasthaya Samaj Vittik College of Physiotherapy and Health Science
Rajshahi Medical Univeristy (Affiliated)
Prime Institute of Medical Technology,Rajshahi (PIMT)
  Chittagong Medical University (Affiliated)
Chittagong Institute of Medical Technology ,CIMT

১।ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ সায়েন্স

২।জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড হেলথ সাইন্সেস

৩।বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট (বিএইচপিআই)

ভর্তির জন্য আবেদনের যোগ্যতাঃ
জীববিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন সহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৮.০০ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পৃথক পৃথক ভাবে জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে। আবেদনকারীকে ২০২২ অথবা ২০২৩ সালে মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় এবং ২০২৪ অথবা ২০২৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিঃ
ক) মোট ২০০ নম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রস্তুত করা হবে। এসএসসি এবং এইচএসসি এর ফলাফলের জন্য = ১০০ নম্বর, (এসএসসি= ৫০% এবং এইচএসসি ৫০%)। খ) লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ পদ্ধতি) = ১০০ নম্বর।
লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক মানবন্টন : পদার্থবিদ্যা = ২৫, রসায়নবিদ্যা = ২৫, জীববিদ্যা = ২৫, ইংরেজী = ১৫, সাধারুণ জ্ঞান = ১০।

৪। ঢাকা কলেজ অব ফিজিওথেরাপি

ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া লাগবে ।

৫। ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি ,আইএমটি

৬।স্টেট কলেজ অব হেলথ সায়েন্স

৭। সাইক ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি

৮।ময়মনসিংহ কলেজ অফ ফিজিওথেরাপি

৯ । অগ্রনী কলেজ অফ ফিজিওথেরাপি

১০। ড্যাফোডিল হেলথ ইন্সটিটিউট

১১।গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক কলেজ অব ফিজিওথেরাপি এন্ড থেলথ্ সায়েন্স

১২। প্রাইম ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি , রাজশাহী ।পিআইএমটি ।

১৩। চট্রগ্রাম ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি ,চট্রগ্রাম । সিআইএমটি।

২. ডিপ্লোমা ইন ফিজিওথেরাপি

ডিপ্লোমা ইন ফিজিওথেরাপি টেকনোলজিস্ট একটি ৪ বছর মেয়াদী কোর্স। এই কোর্সটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীনে সরকারী এবং বেসরকারীভাবে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) প্রতিষ্টান গুলোতে পরিচালিত হয় ।

ভর্তি যোগ্যতা –

প্রার্থীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। প্রার্থী যে শিক্ষাবর্ষের জন্য আইএইচটি ও ম্যাট ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন তাকে সর্বশেষ শিক্ষাবর্ষে বা তৎপূর্ববর্তী ০৪ (চার) শিক্ষাবর্ষে অনুষ্ঠিত এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে অর্থাৎ প্রার্থীকে ২০২২ খ্রি. হতে ২০২৬ খ্রি. পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
প্রার্থীকে এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং নূন্যতম জিপিএ ৩.০০ হতে হবে। এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় জীববিজ্ঞান বিষয় অবশ্যই থাকতে হবে এবং নূন্যতম জিপিএ ২.০০ থাকতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম :

এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ ৫ এর গুণিতক দ্বিগুণ হিসেবে ১০ নম্বর এবং ১০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের যোগফল থেকে জাতীয় মেধা অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।

এসএসসি সিলেবাস অনুযায়ী এমসিকিউ পদ্ধতিতে ১০০ (একশত) নম্বরে ০১ (এক) ঘন্টার পরীক্ষা (বাংলা- ১৫, ইংরেজী- ১৫, গণিত- ১৫, পদার্থ- ১৫, রসায়ন- ১৫, জীববিজ্ঞান- ১৫, সাধারণ জ্ঞান- ১০) গ্রহণ করা হবে। পাশ নম্বর ৪০ (চল্লিশ) নির্ধারিত থাকবে।

কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য (অনুত্তীর্ণ) প্রার্থীগণ কোন সরকারি এবং বেসরকারি আইএইচটি ও ম্যাটস-এ ভর্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেনা।

পড়াশোনার খরচ

ভর্তি হতে প্রতিষ্টান ভেদে ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাগে । প্রতিষ্ঠান গুলোতে হোস্টেল সুবিধা রয়েছে । তাছাড়া ৪ বছরে ভর্তি পরীক্ষার ফিস দেওয়া লাগে ।

ডিপ্লোমা ইন ফিজিওথেরাপিতে সরকারী প্রতিষ্ঠান তালিকা

Institute NamePhysiotherapy Seat List
Institute of Health Technology, Dhaka.112  
Institute of Health Technology, Rajshahi122
Institute of Health Technology, Bogura132  
Institute of Health Technology, Chattogram142  
Institute of Health Technology, Barishal152
Institute of Health Technology, Rangpur162
Institute of Health Technology, Jhenaidah172
Institute of Health Technology, Sylhet182

৩.ফিজিওথেরাপি অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্স (১ বছর মেয়াদী)

মাত্র এক বছরের কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিজিওথেরাপিস্ট স্বাধীনভাবে রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করতে পারেন না। তাকে অবশ্যই একজন প্রশিক্ষিত ও নিবন্ধিত (কোয়ালিফাইড) ফিজিওথেরাপিস্টের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কাজ করতে হয়। মূল ফিজিওথেরাপিস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী থেরাপি প্রয়োগ, রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানই একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিজিওথেরাপিস্টের প্রধান দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *